লাস্ট বেঞ্চ’র শর্টফিল্ম ‘সাইরেনে’ সময়ের প্রতিবাদ

শিল্পের জন্য শিল্প, নাকি জীবনের জন্য শিল্প- এ বিতর্ক বহু পুরনো। তবে বর্তমানে বিশ্ব বাস্তবতায় শিল্পকে এখন জীবন ঘনিষ্ঠ হতে হয়।বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, বর্তমানে দেশের প্রধানতম সামাজিক সমস্যাগুলো কী কী। তবে আপনার বলার তালিকায় প্রথম দিকে থাকবে, নারী লাঞ্ছনা ও যৌন হয়রানি। সম্প্রতি বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনা যার বড় প্রমাণ।

এ বিষয়কেই উপজীব্য করে নিজ তাগিদে নিজেদের অর্থায়নে ‘সাইরেন’ নামে শর্টফিল্ম নির্মাণ করলেন লাস্ট বেঞ্চ’র কর্নধার ও তরুণ নির্মাতা আবদুল্লাহ মাহফুজ অভি। ‘সাইরেন’র দৈর্ঘ্য ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। যার সিনেমাটোগ্রাফিতে ছিলেন সোহান ফেরদৌস।এ স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমায় দেখানো হয়েছে, প্রতিবাদহীনতার সংস্কৃতি এবং এ থেকে উত্তরণের জন্য গণপ্রতিরোধের কথা।

লাষ্টবেঞ্চ টিম জানিয়েছে, ‘দেখিনি, বুঝিনি, শুনিন’ এমন ধারার ভেতরই আটকে আছি আমরা। আটকে আছে বোধ। চোখের সামনে ঘটে যাচ্ছে নানা অঘটন। অথচ কেউ প্রতিবাদ করছে না।  এই প্রতিবাদহীনতাকে প্রতিবাদ করেই লাষ্টবেঞ্চ প্রোডাকশন নির্মাণ করেছে শর্টফিল্ম ‘সাইরেন’।

‘সাইরেন’ সম্পর্কে এর নির্মাতা আবদুল্লাহ মাহফুজ অভি বলেন, আমাদের এখানকার শর্টফিল্মগুলোর বেশিরভাগই ইনডিপেন্ডেট ফিল্মমেকাররা নির্মাণ করেন। এসব শর্টফিল্মে নির্মাতারা তাদের চিন্তা তুলে ধরার চেষ্টা করেন। আমরাও তাই করেছি। যথারীতি অসংখ্য সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়েছি। যা এর নির্মান গণ্ডির বাইরের জগত থেকে ঠিক ফিল করা যায় না। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি, যতটুকু সম্ভব মূল মেসেজটিকে ফুটিয়ে তোলার।

তিনি আরও বলেন, এ ফিল্মে চোখ ধাঁধানো সেট নাই,  চাকচিক্যময় জৌলুস নেই। এখানে আছে অসহ্য নিরবতা আর রূঢ় বাস্তবতার গল্প। আমরা অভিনয় আর বাস্তবতাকে আলাদা করি নাই। চেষ্টা করেছি বাস্তবতাকে তার স্বরূপে দেখানোর জন্য।আমাদের মূল লক্ষ্য প্রতিবাদহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে আসার চেষ্টা। জেনারেশনের ভেতরে বারবার ‘জাগরণের’ অর্থবোধক শব্দটির প্রতিধ্বনি তোলা, বলেন অভি।

বিষয় বস্তু:

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*