শরণার্থী সংকটে উত্তাল গ্রিস-মেসিডোনিয়া সীমান্ত

বিক্ষোভে ফেটে পড়ছেন গ্রিস আর মেসিডোনিয়ার মাঝখানে আটকে পড়া শরণার্থীরা। শনিবার থেকে চলছে তাদের বিক্ষোভ, প্রতিবাদ। শরণার্থীরা জানিয়েছেন, মেসিডোনিয়ায় প্রবেশের জন্য অপেক্ষারত শরণার্থীদের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এদিকে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অন্যান্য দেশ থেকে আসা শরণার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে জার্মান সরকার।

শনিবার সকাল সাড়ে দশটা থেকে শুরু হয় বিক্ষোভ, প্রতিবাদ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাদের মেসিডোনিয়ায় প্রবেশ করতে দিতে হবে। দাবি মেনে না নেয়ায় সীমান্তরক্ষীদের প্রতি প্রথমে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, তারপর ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টাও করেন তারা। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়ে তাদের নিরস্ত করে।

5eb844d4f42ca3da3044833245365ea8-56dc1100ee340

মেসিডোনিয়া আর গ্রিসের মাঝখানের ইদোমেনিতে আটকে পড়ে দুর্বিষহ জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন প্রায় ৭ হাজার মানুষ। ইডোমেনি ক্যাম্পে আটকে রয়েছেন প্রায় ১৪ হাজার শরণার্থী।  গৃহযুদ্ধ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতায় প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে আসা ওই শরণার্থীদের লক্ষ্য মেসিডোনিয়া হয়ে জার্মানিতে প্রবেশ করা।

মেসিডোনিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, প্রতিদিন গড়ে ৫০০ জনকে প্রবেশ করতে দেয়া হবে। কিন্তু আদতে তা হচ্ছে না। খুব কম মানুষই পাচ্ছেন এ সুযোগ। সোমবার মাত্র ৫০ জনকে সীমান্ত অতিক্রম করতে দেয়া হয়েছে। অথচ প্রতিদিন সিরিয়া, ইরাক ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে দেড়শতাধিক নতুন শরণার্থী জড়ো হচ্ছেন সেখানে। আর এর ফলে ৩ হাজার মানুষের জায়গায় জমে গেছে ৭ হাজার মানুষের ভিড়।

কেন্দ্রীয় মেসিডোনিয়া প্রদেশের গভর্নর অ্যাপোসতোলোস জিৎজিকোসতাস গ্রিস সরকারের কাছে ওই এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। তিনি জানান, পশ্চিম ইউরোপের সাথে সীমান্ত সীমাবদ্ধতা থাকার জন্য তাদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার ইদোমেনি ক্যাম্প পরিদর্শনের পর রেড ক্রস এবং অন্যান্য এনজিওদের তিনি বলেছেন, ‘এটি এক মানবিক সংকট। আমি সরকারের নিকট ওই এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণার অনুরোধ করেছি।’

অ্যাপোসতোলোস বলেন, ‘সাবেক ইয়োগোস্লাভ প্রজাতন্ত্রকে জরুরিভিত্তিতে সীমান্ত খুলে দিতে হবে। সেই সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সেইসব দেশের বিরুদ্ধে গুরুতর ব্যবস্থা নিতে হবে, যারা আজ সীমান্ত বন্ধ করে রেখেছেন। অথচ তারা ইইউ সদস্য অথবা সদস্যপ্রার্থী দেশ।’

এদিকে সিরিয়ার পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অন্যান্য দেশ থেকে যারা জার্মানিতে এসেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে জার্মান সরকার। ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে মরক্কো থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ। অভিবাসন এবং শরণার্থী বিষয়ক কার্যালয় বিএএমএফ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে মরক্কো থেকে জার্মানিতে এসেছে অন্তত ১০ হাজার মানুষ। তাদের অনেকেই জার্মানিতে প্রবেশ করে পাসপোর্ট ফেলে দিয়ে নিজেদের সিরীয় বলে দাবি করেন।

তাদের মাত্র শতকরা ৩ দশমিক ৭ ভাগ এ পর্যন্ত রাজনৈতিক আশ্রয়ের অনুমতি পেয়েছেন। বাকিদের মরক্কোয় ফেরত পাঠানোর উদ্যোগে সম্মতি জানিয়েছে মরক্কো। রাজধানী রাবাতে জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টোমাস দেমেজিয়েরের সঙ্গে বৈঠকে মরক্কো সরকারের পক্ষ থেকে এ সম্মতির কথা জানান সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামেদ হাসাদ।

বিষয় বস্তু:

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*