সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংগ্রামে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে: ৪ সংগঠন

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (৮ মার্চ) বিকাল ৪ টায় জাতীয় প্রেসক্লাব সম্মুখে ৪ সংগঠনের উদ্যোগে এক সমাবেশ ও সমাবেশ শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ সভাপতি মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, জাতীয় গণফ্রন্ট সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা সভাপতি জাফর হোসেন, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম সভাপতি মাইকেল চাকমা, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সম্পাদক ডাঃ আবদুল হাকিম, হিল উইমেন ফেডারেশন নেত্রী মন্টি চাকমা, বিপ্লবী নারী মুক্তির আহ্বায়ক নাছিমা নাসরিন ও বাংলাদেশ লেখক শিবিরের মৌসুমী বিশ্বাস। সমাবেশ পরিচালনা করেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি সালমান রহমান।

12829387_541142372733524_1482494979958547760_o

সমাবেশের সভাপতি মাসুদ খান বলেন, জনগণকে আজ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নারী মুক্তির সংগ্রাম জঙ্গিবাদে সম্ভব নয়। নারী মুক্তির পথ সমাজতন্ত্র। সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে তাই রাজনৈতিক সংগ্রামে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

মাসুদ খান আরও বলেন, ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি এক প্রতারণামূলক নির্বাচনে বর্তমান সরকার গঠিত হবার পর দেশে এক ফ্যাসিবাদ শাসন পাকাপোক্তা করার ষড়যন্ত্র চলছে। সকল ক্ষেত্রে নারীর উপর বৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াই যেমন করতে হবে তেমনি উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তিতে সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি আদায় করতে হবে এবং সকল লড়াইকে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা উচ্ছেদের লড়াইয়ের সাথে যুক্ত করতে হবে।

সমাবেশে ফয়জুল হাকিম বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস সারা দুনিয়ার শ্রমজীবী নারীদের এক সংগ্রামের দিন। পুঁজিবাদ ব্যবস্থা, ব্যক্তি মালিকানার ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে নারীর মুক্তি ঘটবে।

ফয়জুল হাকিম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন নারী হলেও তিনি একটি শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করেন। সে শ্রেণি হচ্ছে এদেশের শাসক-শোষক পুঁজিপতি শ্রেণী। সেজন্য গার্মেন্টসে কর্মরত সহস্র নারী শ্রমিক ভবন ধসে বা আগুনে পুড়ে মারা গেলেও বর্বর খুনী মালিকদের কোন শাস্তি হয় না।

সমাবেশে টিপু বিশ্বাস বলেন, নারী মুক্তির সংগ্রাম শুধু নারীর একার নয়, এই সংগ্রাম পুরুষদেরও। নারী-পুরুষকে সম্মিলিতভাবে এ সংগ্রাম করতে হবে।

টিপু বিশ্বাস আরও বলেন, রান্না ঘরের দাসত্ব থেকে নারীকে মুক্ত করতে হবে।

জাফর হোসেন বলেন, সাম্রাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দেশে দেশে যে সংগ্রাম চলছে সে সংগ্রামে নারীর অংশগ্রহণ সংগ্রামকে জঙ্গীত্ব দিয়েছে।

গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম সভাপতি মাইকেল চাকমা বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে বুর্জোয়া ব্যবহার করে একে অনুষ্ঠানে পরিণত করেছে।

বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের (মা-লে-মা) সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আবদুল হাকিম বলেন, ১৯৭১ এ সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রাম করে দেশ স্বাধীন করলেও নারীর মুক্তি ঘটেনি। নারী মুক্তির জন্য তাই শ্রেমিকশ্রেণির নেতৃত্বে সংগ্রাম বেগবান করতে হবে।

হিল উইমেন ফেডারেশন নেত্রী মন্টি চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী নির্যাতন-ধর্ষণ নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। পাহাড়ী নারীদের জীবন আজ বিপন্ন।

বিপ্লবী নারী মুক্তির নাছিমা পারভীন বলেন, পুঁজিবাদ উচ্ছেদের সংগ্রামে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ঘটাতে হবে।

বাংলাদেশ লেখক শিবিরের মৌসুমী বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশ থেকে ২ লক্ষ নারী শ্রমিক সৌদি আরবে প্রেরণ করার সরকারি সিদ্ধান্তের পর দেখা গেল মাত্র কয়েক হাজার নারী শ্রমিক সেখানে গিয়েছেন। সৌদি আরবে প্রেরণকৃত নারী শ্রমিকদের উপর সেখানকার প্রতিষ্ঠানের নির্যাতন-যৌন নিপীড়ন প্রভৃতি বিষয়ে সরকার কোন ব্যবস্থা নেয় নি।

সমাবেশ শেষে মুক্তির মঞ্চ’র নেতৃত্বে প্রতিবাদের কবিতা পাঠ ও গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন হেমন্ত কুমার, দীপা মল্লিক, মাসুম খান, কিষাণ লাল।সূত্র: প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

Latest from নির্বাচিত খবর

গো টু টপ