সুন্দরবন রক্ষায় ‘মাভৈঃ’র ‘বাদাবনের’ জারি

‘বাদাবন মায়ের আঁচল আভয়রে নিওনা কাড়িয়া নিরদয়/ উন্নয়নের ঝড়ে ওড়াও এমন সুন্দরবন / সুন্দর যতি না থাকে তবে না থাকুক দুনয়ন। বাদাবন মায়ের আঁচল অভয় রে নিওনা কাড়িয়া নিরদয়।’

এ এক অন্য রকম আকুতী, অন্য এক আক্ষেপ। সম্প্রতি মাভৈঃ গানের দল সুন্দরবন রক্ষায় সুতীব্র এক আকুতী জানিয়ে বেঁধেছে বাদাবনের জারি। গানের কথাগুলো শুনলে হৃদয়ে এক ব্যাথা অনুভূত হয়। গভীর এক ষড়যন্ত্রে কি তাহলে আমরা আমাদের সুন্দরবন ধংস করে ফেলছি!

mabhoi

মাভৈঃ গানের দলের দলপতি মুসা কলিম মুকুল জানান, সুন্দরবনের বন্দনায় ‘মাভৈঃ’ দলের ক্ষুদ্র পরিবেশনাটি বিশ্বপ্রকৃতির সুন্দরতম তিলক সুন্দরবনকে রক্ষার সংগ্রামে তিলেকমাত্র প্রেরণা তৈরি করতে পারলে আমরা কৃতার্থ হব। সুন্দরবন সংলগ্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত গানখানি শুনবেন ও অপরকে শোনাতে শেয়ার করবেন, এই প্রত্যাশা।

তিনি আরও বলেন, ভয়ঙ্কর সুন্দর আমাদের সুন্দরবন।বাঙালির জন্য তা বাংলামায়ের অভয় আঁচল। স্নেহে, দৃঢ়তায়। তাকে আমরা সুন্দর রাখবই।
যারা দেশের প্রতি, বিশ্বপ্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করেন তাঁরা গর্জে উঠুন, বাঘের মতো, সুন্দরবন রক্ষার প্রত্যয়ে, সমস্বরে।

তিনি জানান, সুন্দরবন সংলগ্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত গানখানিতে সুন্দরবন রক্ষায় আছে আহবান আকুতি আর এক আবেগ মেশান সুর। সুন্দরবনের অস্তিত্ব নিশ্চিত হুমকিতে ফেলে গড়ে উঠছে বিশাল কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প। এই প্রকল্পের কারণে দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ের নিবেদন বাদাবনের জারি। এই গানটিতে সুন্দরবন মায়ের অভয় আঁচলের রূপে কল্পনা করা হয়েছে। মায়ের আচঁল সম সুন্দরবন নিয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতেই  এ আয়োজন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত সুন্দরবন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। এটি শুধু ৫ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বনই নয়, এটি প্রাকৃতিক দূর্বিপাক থেকে আমাদের রক্ষা পাওয়ার একমাত্র সহায়। সিডর-আইলার উন্মত্ততা আমাদের কল্পনার সীমাকেও ছাড়িয়ে যেত যদি না সুন্দরবন বুক চিতিয়ে বাধা হয়ে না দাঁড়াত। প্রকৃতির রুষ্ঠতা থেকে এই বন বরাবরই আমাদের রক্ষা করেছে। নীরবে আমাদের অর্থনীতিতে রেখে চলছে বিরাট অবদান। এবার সেই বনটিকেই হত্যা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে। বিশাল এই প্রকল্প কাজে ইতোমধ্যেই অধিগ্রহণ করা হয়েছে ১৮৩৪ একর জায়গা। মাটি ভরাটের যে প্রারম্ভিক কাজ চলছে তার মাধ্যমে দূষণ চক্র ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

প্রতি বছর লাখ টন ধান আর হাজার টন মাছের উৎপাদন জলাঞ্জলি দিয়ে যে বিশাল কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে তাতে ভারত হয়েছে আমাদের ব্যবসায়িক অংশীদার। রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের জন্য বড় হুমকি এর মধ্যেই সেখানকার জলজ প্রাণীর উপর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে,  কারণ সেখানের শুশুক বা ডলফিনগুলো সেই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে শুরু করেছে।

বাদাবনের জারী গানটি রচনা করেছেন মাভৈঃ দলনেতা মুসা কলিম মুকুল, সঙ্গে আছেন মারুফা, তুরাগ, রাসেল ও পুলক।
গানটি দেখুন-

সূত্র: মিডিয়া খবর ডট কম

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

Latest from নির্বাচিত লেখা

labour_2391847f

মে দিবসের ইতিকথা

‘তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান, তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে
গো টু টপ