তনুর খুনি গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে শাহবাগে ঢাবি শিক্ষার্থীদের অবরোধ

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে ক্রমশ ফুঁসে উঠছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নেতা-কর্মীরা। রবিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

রাজধানীর শাহবাগে সড়ক অবরোধ করে কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর খুনি গ্রেফতার না হওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। রবিবার দিনভর নানা কর্মসূচির পর বিকাল ৫টার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় শতাধিক শিক্ষার্থী। তারা সড়কে গোল হয়ে বসে খুনি গ্রেফতারে দাবিতে নানা স্লোগান দিতে থাকে। প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থানের পর শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ তুলে নেয়।

এসময় শিক্ষার্থীরা তনুর হত্যাকারীকে গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন।  এ সময়ের মধ্যে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া না হলে মঙ্গলবার থেকে শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।

সড়ক অবরোধের আগে তনুকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদ ও ধর্ষকেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ব্যবিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে রাজু ভাষ্কর্যের সামনে সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা।

8_202179

এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনও মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।শুধু ঢাকা নয়, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রবিবারও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে তনুর হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করা হয়।

গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় নিজের বাসার কাছে খুন হন ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের কর্মচারী ইয়ার হোসেন একটি মামলা করলেও কোনো খুনিকে শনাক্ত কিংবা গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এক সপ্তাহ পর মামলাটি তদন্তের ভার চেপেছে ডিবির উপর।

তনু হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছে। সোস্যাল মিডিয়াও সরব এই ঘটনার প্রতিবাদে।

 

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে কাজ সেরে রাত সোয়া ১০টায় বাসায় ফিরি। তনুর মা বলল,তনু বাসায় ফেরেনি। সে কখনও বাসায় ফিরতে দেরি করে না। টর্চলাইট নিয়ে মেয়ের খোঁজে বের হই।বাসার কাছেই একটি কালভার্ট আছে। কালভার্টের পাশে দেখি তনুর একটি জুতা পড়ে আছে। কয়েক হাত দূরে ওর মোবাইল ফোনটা পড়ে থাকতে দেখি। আর একটু পরে উঁচু জায়গায় জঙ্গলের মধ্যে তনুকে পেলাম। মাথার নিচটা থেঁতলে আছে। ওর মুখে রক্ত আর আঁচড়ের দাগ। কয়েকজন প্রতিবেশী মিলে ওকে সিএমএইচে (সামরিক হাসপাতাল) নিয়ে যাই। তনু দুইটি টিউশনি করত। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে বাসা থেকে বের হতো। ওর মা আনোয়ারা বেগম এগিয়ে দিত। রাতে ফেরার পথেও ওর মা এগিয়ে নিয়ে আসতো। যেখানে টিউশনি করতো তার দূরুত্ব বাসা থেকে ২শ’ গজ। হত্যাকাণ্ডের স্থল বাসা থেকে একশ’ গজ দূরে। তিনি আরও বলেন, সেনানিবাসের মতো নিরাপদ এলাকা, তা ছাড়া বাসা থেকে দুইশ’ গজ দূরে,তাই রাতে তনুর বাসায় ফেরা নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা ছিলো না।

12063721_987358911356608_7034372089801284687_n

২৪ মার্চ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে দেওয়া ভিক্টোরিয়া কলেজ শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়,গত ২০ মার্চ সন্ধ্যায় টিউশনি শেষে বাড়ি ফেরার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসের অভ্যন্তরীণ আবাসিক এলাকায় তনুকে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা অমানুষিক নির্যাতন করে, ধর্ষণ করে এবং তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার গলা কেটে ফেলে। ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন কোয়ার্টার সংলগ্ন পাওয়ার হাউজ এলাকার কালভার্টের কাছে তার অর্ধনগ্ন লাশ ফেলে যায়। এই জঘন্যতম অপরাধের আলামত ও প্রমাণাদি নষ্ট করার জন্য নরপশুরা তার মৃতদেহের মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলে, পরনের পোশাক ছিঁড়ে ফেলে এবং তার চেহারা নষ্ট করে দেয়। আমরা পরদিন তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে তার বাসায় যাওয়ার উদ্যোগ নিলে কতিপয় সেনা সদস্য ক্যান্টনমেন্ট গেইটে এবং তার বাসায় যাবার রাস্তায় আমাদের বাধা দেয় এবং হয়রানি করে। তারা আমাদেরকে নিহত তনু সম্পর্কে অশালীন কথা বলে। আমাদের ধারণা হচ্ছে, এই ঘটনায় কতিপয় বিপথগামী সেনা সদস্য জড়িত ছিল। কেননা, সেনানিবাসের মত সুরক্ষিত ও নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় সন্ধ্যা ৭টায় সেনা সদস্য ব্যতীত বাইরের সন্ত্রাসীরা ঢুকে ২০ বছর বয়সী একজন মেয়েকে অপহরণ করে তাকে ধর্ষণপূর্বক হত্যা করে তার লাশ টেনে হিঁচড়ে ফেলে যাওয়ার সুযোগ ও সাহস পাবে বলে আমরা মনে করি না। যদি বাইরের কোনও সন্ত্রাসী এই অপরাধ করে থাকে তাহলে তারা নিশ্চিতভাবেই সেনানিবাসের কোন সদস্যের পরিচিত ও মদদপুষ্ট।

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

Latest from নির্বাচিত খবর

গো টু টপ