৫ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে উত্তপ্ত যবিপ্রবি

অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত ৫ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে। ধারাবাহিক আন্দোলনে রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে চলছে ক্লাস বর্জন।

রবিবার সকাল থেকেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পূর্ব ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মসূচী নিয়ে মাঠে নামেন। কর্মসূচির প্রথম ধাপে শিক্ষার্থীরা সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে অনুষদ ভবনের সামনে অবস্থান করেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদিক্ষণ শেষে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে রাখেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড.আব্দুস সাত্তার কয়েক ঘণ্টার জন্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।  দুপুর ১ টার পর শিক্ষার্থীদের আবার অনুষদ ভবনের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দেন। বিকালে শিক্ষার্থীরা যশোর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

৫ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে ১০ এপ্রিল থেকে আন্দোলন করে আসছেন যবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা
৫ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে ১০ এপ্রিল থেকে আন্দোলন করে আসছেন যবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

মানববন্ধন চলাকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন করছি। তবে কোনও মিডিয়া তা প্রকাশ করছে না। বিষয়টি নিয়ে আমরা পুরোপুরি হতাশ’।

আজীবন বহিষ্কৃত জিইবিটি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নাসিরুদ্দীন বাদল বলেন, আমি ন্যায়ের পথে থেকে একটি নৈতিক আন্দোলন করে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একজন সন্ত্রাসীকে বাঁচানোর জন্যে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ৫ জন ছাত্রের জীবন নিয়ে খেলছে। আমরা আবার ক্লাসে ফিরে পরীক্ষায় বসতে চাই।

দ্রুত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

উল্লেখ্য গত বছর ১০ ডিসেম্বর ক্যাম্পাসে ছাত্রীকে উত্যক্ত করার ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। টানা তিন ঘণ্টার সংঘের্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ শিক্ষার্থী আহত হন। গ্রামবাসীদের হামলার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর ও একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে। পরে পুলিশ ও র‌্যাব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গত ৯ এপ্রিল এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত তদন্ত জিন প্রকৌশলী ও জৈব প্রযুক্তি (জিইবিটি) বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের একজন ছাত্রকে আজীবন, দুজনকে এক বছর করে ও অপর দুজনকে আবাসিক হল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া একজন নিরাপত্তাকর্মীকেও চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে। এর প্রতিবাদেই ১০ এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থীরা এ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

দ্বন্দ্ব প্রতিবেদন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

Latest from নির্বাচিত খবর

গো টু টপ