এলপিজি প্লান্ট ও পাইপ লাইন স্থাপন এলপি গ্যাসের বাজার সম্প্রসারণের চক্রান্ত: গণমঞ্চ

দ্বন্দ্ব ডেস্ক।।

এলপিজি প্লান্ট ও পাইপ লাইন স্থাপনের মধ্য দিয়ে গৃহস্থালীতে সরবরাহ বন্ধ করে এলপি গ্যাসের বাজার সম্প্রসারণ।আর সম্প্রসারিত একচেটিয়া ব্যবসা ভারত ও আওয়ামী লীগের লুটেরা ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত করা হচ্ছে উল্লেখ তা বন্ধের দাবি জানিয়েছে জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ। মঙ্গলবার সংগঠনের এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

গণমঞ্চের সভাপতি মাসুদ খান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি ৪ দেশের যৌথ সড়ক যোগাযোগের নামে ট্রানজিট দেওয়া এবং ভারতীয় আদানী গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তির পর সরকার এলপিজি প্লান্ট স্থাপন ও ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলে পাইপ লাইনে তরল জ্বালানী সরবরাহের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশের এলপিজি বাজারে ভারতের অনুপ্রবেশসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এলপিজি বাজার ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের একচেটিয়া অধিকার নিশ্চিত করা হলো। সেই সাথে বৃড় আঞ্চলিক শক্তি ভারতের জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনেরও শর্ত সৃষ্টি করা হলো।

gonomancha

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ চুক্তি এমন এক সময়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে যখন ২০০৯ সালের পর আওয়ামী সরকার গ্যাস সংকটের অজুহাতে পাইপ লাইনে গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ রেখেছে। অথচ গৃহস্থালী গ্যাসের ব্যবহার মোট উৎপাদনের মাত্র ১.২৬ শতাংশ। সম্প্রতি একই অজুহাতে সরকারের মন্ত্রী উপদেষ্টারা পাইপ লাইন সংযোগ উঠিয়ে দেওয়া, পাইপ লাইন ব্যবহারকারীদের ডাবল বার্নার চার্জ দুই দফা বাড়ি ৬৫০ টাকা করেছেন। এখন তা ১১০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি কথা বলছেন। লাভজনক এ খাতে এ অতিমুনাফার কারণকে ন্যায্যতা দানের জন্য তারা এলপিজি ব্যবহারকারীদের সাথে ব্যয় বৈষম্যের অজুহাত দেখাচ্ছেন। তারা বলছেন এ বর্ধিত মুনাফা থেকে এলপিজি ব্যবহারকারীদের ভর্তৃকী দেওয়া হবে।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সরকার কুইক রেন্টাল দুর্নীতির মতো এলপিজি খাতকে দেশী-বিদেশীলুটেরাদের জন্য উন্মুক্ত করতে চাইছে। শুধু তাই নয় দেশের দরিদ্র পীড়িত এবং বিকল্প জ্বালানীতে অভ্যস্থ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভর্তুকী দিয়ে এলপিজির বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টাও তারা করতে চায়। কিন্তু সবচেয়ে ভয়্ঙ্কর গণবিরোধী চক্রান্ত হলো বিকল্প জ্বালানীর যেখানে অভাব, সেই শহারাঞ্চলে পাইপ লাইনের সংযোগ উঠিয়ে দিয়ে জোরপূর্বক এলপিজি বাজার সৃষ্টির প্রচেষ্টা।

এতে উল্লেখ করা হয়,বাংলাদেশে এখন ৩ থেকে ৪ কোটি মানুষ যাদের অধিকাংশ শহুরে শ্রমিক ও শ্রমজীবী পাইপ লাইনের গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। এখন যেখানে মাসে ৬৫০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে এলপিজি-র ক্ষেত্রে সমপরিমান গ্যাস ব্যবহার করতে হলে খরচ পড়বে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা।

বিবৃতিতে গৃহস্থালী গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিসহ পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে গণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। সূত্র: প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

Latest from নির্বাচিত লেখা

labour_2391847f

মে দিবসের ইতিকথা

‘তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান, তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে
গো টু টপ