যবিপ্রবিতে আন্দোলনরতদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, শিক্ষার্থী বাদল গ্রেফতার

দ্বন্দ্ব রিপোর্ট।।

ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় ৫ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) চলমান আন্দোলন ১৭তম দিনে গড়িয়েছে। সোমবার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলার পর মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ‘বহিষ্কৃত’ শিক্ষার্থী জিন প্রকৌশল ও জৈব প্রযুক্তি বিভাগের ছাত্র নাসিরউদ্দিন বাদলকে। প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে থাকা শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি পর আন্দোলনরত ২৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা।

13062212_1700702683516675_2446082015067169473_n

জানা গেছে, দুপুর আড়াইটার দিকে ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থী বাদলকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর পুলিশ প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে থাকা শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ শুরু করে। এ সময় আরও ২০-২৫ জন শিক্ষার্থীকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে রাখা হয়েছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছিল।

এর আগে সকাল থেকে আন্দোলনের ১৭ তম দিনে যবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে । ব্যারিকেড দিয়ে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে তারা । প্রশাসনিক ভবনের প্রতিটি গেট সিলগালা করে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা । ফলে ভবনে আটক হয়ে রয়েছে পুলিশ, কর্মচারী ও কর্মকর্তারা । দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখার সিধান্ত নিয়েছে তারা । শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে খাবার ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ।

 

রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ভিসি ও বিভিন্ন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য, অশ্লীল ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ এবং বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি’র অভিযোগে যশোর কোতয়ালী থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।  আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, আন্দোলনকে থামাতে ও ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ভিসি এবার মামলা দিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। বাদলকে গ্রেফতার এরই অংশ।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের পক্ষে ডেপুটি রেজিস্ট্রার আমিনুল হক সোমবার (২৫ এপ্রিল) ২৮ শিক্ষার্থীকে  আসামি করে যশোর কতোয়ালি থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ১১২ ও ১১৩।

আসামিরা হলেন, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আতিক রহমান, যবিপ্রবির সাবেক ছাত্র ও বর্তমানে পরিবেশ গবেষক আশরাফুল আলম, স্নাতকের শিক্ষার্থী পিয়াস বিশ্বাস, অ্যাডমিন প্যানেল নামধারী ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারী একজন, জিন প্রকৌশল ও জৈব প্রযুক্তি বিভাগের ছাত্র নাসিরউদ্দিন বাদল, পাভেল মাহমুদ, মাহফুজুর রহমান, ফার্মেসি বিভাগের ছাত্র বোরহান উদ্দিন, অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নাজিবুল্লাহ শেখ নাজিম, মোহাম্মদ তাওয়াবুর, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের মাহাবুবুর রহমান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলোজি বিভাগের ছাত্র সাইফুজ্জামান সুজ্জল, জিন প্রকৌশল ও জৈব প্রযুক্তি বিভাগের ছাত্র শরীফ আল মুতি, রাসেল উদ্দিন, ইসমাইল হোসেন, সরকার কৌশিক আহমেদ, কাজী লিমন আহমেদ, পরিবেশ বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র এবিএম ফরহাদ, আসাদুজ্জামান কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র রাকিব চৌধুরী, মোহাম্মদ শিম, পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের ছাত্র তরিকুল ইসলাম শুভ, নাজমুল হুদা নাজ এবং নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড টেকনোলোজি বিভাগের ছাত্র ফিরোজ মাহমুদ।

এদিকে, ৫ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন অব্যাহত রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় শিক্ষক ও ছাত্রী লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে অন্যায়ভাবে পাঁচ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারের প্রতিবাদে যশোর শহরের দড়াটানার চিত্রার মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি পালন করা হয়। সন্ধ্যা ৬ টা মিনিট থেকে ৭টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষার্থী মোমবাতি প্রজ্বলনে অংশ নেন।

এর আগে শিক্ষার্থীরা দড়াটানা মোড় থেকে চিত্রার মোড় পর্যন্ত পদযাত্রায় অংশ নেয়। মোমবাতি প্রজ্জ্বলন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের ছাত্রছাত্রীরা।

উল্লেখ্য, গত বছর ৯ ডিসেম্বর ক্যাম্পাসে ছাত্রীকে উত্যক্ত করার ঘটনা নিয়ে সন্ত্রাসী বদিউজ্জামান বাদলের মদদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। টানা তিন ঘণ্টার সংঘের্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ শিক্ষার্থী আহত হন।

৫ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে ১০ এপ্রিল থেকে আন্দোলন করে আসছেন যবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা। গত ৯ এপ্রিল এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি জিন প্রকৌশলী ও জৈব প্রযুক্তি (জিইবিটি) বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের একজন ছাত্রকে আজীবন, দুজনকে এক বছর করে ও অপর দুজনকে আবাসিক হল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া একজন নিরাপত্তাকর্মীকেও চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে। এর প্রতিবাদেই ১০ এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

Latest from নির্বাচিত খবর

গো টু টপ