যবিপ্রবির আন্দোলনরত ২৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা, মঙ্গলবার প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও

দ্বন্দ্ব প্রতিবেদন।।

ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় ৫ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) চলমান আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ভিসি ও বিভিন্ন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য, অশ্লীল ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ এবং বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি’র অভিযোগে যশোর কোতয়ালী থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।  আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, তাদের আন্দোলনকে থামাতে ও ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ভিসি এবার মামলা দিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

৫ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে ১০ এপ্রিল থেকে আন্দোলন করে আসছেন যবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা
৫ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে ১০ এপ্রিল থেকে আন্দোলন করে আসছেন যবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের পক্ষে ডেপুটি রেজিস্ট্রার আমিনুল হক সোমবার (২৫ এপ্রিল) ২৮ শিক্ষার্থীকে  আসামি করে যশোর কতোয়ালি থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ১১২ ও ১১৩।

আসামিরা হলেন, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আতিক রহমান, যবিপ্রবির সাবেক ছাত্র ও বর্তমানে পরিবেশ গবেষক আশরাফুল আলম, স্নাতকের শিক্ষার্থী পিয়াস বিশ্বাস, অ্যাডমিন প্যানেল নামধারী ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারী একজন, জিন প্রকৌশল ও জৈব প্রযুক্তি বিভাগের ছাত্র নাসিরউদ্দিন বাদল, পাভেল মাহমুদ, মাহফুজুর রহমান, ফার্মেসি বিভাগের ছাত্র বোরহান উদ্দিন, অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নাজিবুল্লাহ শেখ নাজিম, মোহাম্মদ তাওয়াবুর, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের মাহাবুবুর রহমান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলোজি বিভাগের ছাত্র সাইফুজ্জামান সুজ্জল, জিন প্রকৌশল ও জৈব প্রযুক্তি বিভাগের ছাত্র শরীফ আল মুতি, রাসেল উদ্দিন, ইসমাইল হোসেন, সরকার কৌশিক আহমেদ, কাজী লিমন আহমেদ, পরিবেশ বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র এবিএম ফরহাদ, আসাদুজ্জামান কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র রাকিব চৌধুরী, মোহাম্মদ শিম, পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের ছাত্র তরিকুল ইসলাম শুভ, নাজমুল হুদা নাজ এবং নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড টেকনোলোজি বিভাগের ছাত্র ফিরোজ মাহমুদ।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলোজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র নাসিরউদ্দিন বাদলের নেতৃত্বে কিছুসংখ্যক ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র নিরাপত্তা প্রহরী বদিউজ্জামান বাদলের ভাই শরিফুল ইসলামের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাদলকে মারপিট করে আহত করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত কমিটির সুপারিশে যবিপ্রবির ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডে অভিযুক্ত ছাত্র নাসিরউদ্দিন বাদলকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং অন্য চার ছাত্রকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের সুপারিশ করে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ব্যতিত ফেসবুক আইডি খুলে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করা, অপপ্রচার, উস্কানিমূলক বক্তব্য, শিক্ষকদের গালিগালাজ, হুমকি, অযৌক্তিক আন্দোলনের পক্ষে প্রচারণা এবং শিক্ষক কর্মকর্তাদের কিছু প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রী অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমতাবস্থায় অভিযোগগুলো তদন্ত করে ফেসবুক আইডিগুলো শনাক্ত করে তা বন্ধ এবং তা পরিচলানাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা এজাহারে বলা হয়েছে।

ইতোপূর্বে তাদের এ বিষয়ে ‘সর্তক’ করা হয়েছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে যবিপ্রবির ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার জানিয়েছেন, ছাত্রদের আগেই এই বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা শোনেনি। ফলে রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মামলা হয়েছে।

এদিকে, ৫ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন অব্যাহত রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় শিক্ষক ও ছাত্রী লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে অন্যায়ভাবে পাঁচ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারের প্রতিবাদে যশোর শহরের দড়াটানার চিত্রার মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি পালন করা হয়। সন্ধ্যা ৬ টা মিনিট থেকে ৭টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষার্থী মোমবাতি প্রজ্বলনে অংশ নেন।

এর আগে শিক্ষার্থীরা দড়াটানা মোড় থেকে চিত্রার মোড় পর্যন্ত পদযাত্রায় অংশ নেয়। মোমবাতি প্রজ্জ্বলন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের ছাত্রছাত্রীরা।

আন্দোলনরতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একাধিক শিক্ষার্থী জানান, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দিন দিন তীব্র হচ্ছে। প্রশাসন প্রথমে মিডিয়াকে হাত করে আন্দোলনকে দমিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের টানা কর্মসূচির কারণে তা ব্যর্থ হয়েছে। আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সব ব্যর্থ হওয়ায় প্রশাসন মামলা করে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, গত বছর ৯ ডিসেম্বর ক্যাম্পাসে ছাত্রীকে উত্যক্ত করার ঘটনা নিয়ে সন্ত্রাসী বদিউজ্জামান বাদলের মদদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। টানা তিন ঘণ্টার সংঘের্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ শিক্ষার্থী আহত হন।

৫ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে ১০ এপ্রিল থেকে আন্দোলন করে আসছেন যবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

গত ৯ এপ্রিল এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি জিন প্রকৌশলী ও জৈব প্রযুক্তি (জিইবিটি) বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের একজন ছাত্রকে আজীবন, দুজনকে এক বছর করে ও অপর দুজনকে আবাসিক হল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া একজন নিরাপত্তাকর্মীকেও চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে। এর প্রতিবাদেই ১০ এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

Latest from নির্বাচিত খবর

গো টু টপ