বাঁশখালীর গণ্ডামারায় ‘পুলিশি অবরোধ,’ তল্লাশি ঘরে ঘরে

দ্বন্দ্ব ডেস্ক।।

বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতায় গত মাসে অন্তত চার গ্রামবাসী হতাহতের ঘটনার পর চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা উনিয়নে এখন চলছে “পুলিশি অবরোধ,” বাড়ী বাড়ী হচ্ছে তল্লাসী। গ্রামবাসী জানায় ইউনিয়নের জায়গায় জায়গায় বসানো হয়েছে পুলিশ চেকপোষ্ট। কাউকে ঢুকতে বা বেরুতে করা হচ্ছে তল্লাসি।

banshkhali_coal_power_plant

 

এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানকে কেন্দ্র করে দেখা দেয়া অস্থিরতায় গত এপ্রিলের ৪ তারিখ অন্তত ৪ জন নিহত হয়। এক মাস পার হলেও এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিয়ে দোষীদের চিহ্নিত না করে গ্রামবাসীর ওপর জোর-জুলুম অব্যহত রেখেছে প্রশাসন।

গণ্ডামারা বসতভিটা গোরস্থান রক্ষা সংগ্রাম কমিটির প্রধান মোহাম্মদ জালাল চৌধুরী জানান, গত তিন দিন ধরে পুলিশি অবরোধের মধ্যে দিনাতিপাত করছে গ্রামবাসী। “যেন, কাশ্মীর বানিয়ে রাখা হয়েছে। চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না।”

জবরদস্তি ও ভয়ভীতির চোটে বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরে অবস্থানরত জালাল জানান, গতকাল দুপুর তিনটা থেকে শুরু হয় বাড়ী বাড়ী তল্লাশী। সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ অন্তত ৫০টি ঘরে তল্লাশি শেষ করে চেকপোষ্টে ফেরত যায় পুলিশ।

তিনি দাবি করেন, পুলিশ এক পথচারীকে গতকাল বিকাল ৫টা নাগাদ গ্রেফতার করে। তিনি পথচারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি।

এদিকে, গণ্ডামারার গ্রামবাসীদের পাশে থাকার আহবান জানিয়ে চট্টগ্রামে অবস্থানরত জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় নেতা সামিউল আলম রিচি ফেসবুকে ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, “এসব ক্র্যাক-ডাউন করে সরকার প্রশাসন-এস আলম-সরকার কোন ফায়দা লুটতে পারবে না। গণ্ডামারাবাসী নিজেদের অধিকার ঠিকই বুঝে নেবেন।”

গণ্ডামারাবাসীদের সংগ্রামে সংহতি জানিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আদিত্য মাহমুদ বলেন, “গণ্ডামারার জনগণকে সংগঠিত হয়ে সরকার-প্রশাসনের এই গণবিরোধী চক্রান্তকে রুখে দিতে হবে।”

উল্লেখ্য, দফায় দফায় আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত ৪ এপ্রিল প্রতিরোধকারীদের ওপর চড়াও হয়ে গুলি চালায় পুলিশ। সেদিন, পুলিশের ভাষ্যমতে অন্তত চারজন নিহত হয়, আহত হয় বহু।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

Latest from নির্বাচিত খবর

গো টু টপ