দেশের গ্যাস পাচার করে বাজারে আমদানি করা গ্যাস চায় সরকার

দ্বন্দ্ব রিপোর্ট।।

আগামী অর্থবছরের (২০১৬-১৭) বাজেটে এলপিজি সিলিণ্ডারের দাম কমানোর প্রস্তাব করেছে সরকার। বাসাবাড়ীতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা সিলিণ্ডার ব্যবহার জনপ্রিয় করে তোলার এই উদ্যোগের পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত গ্যাস লাইন, চট্টগ্রামে এলপিজি টার্মিনাল, গ্যাসের দাম বাড়ানোসহ নানানভাবে চলছে গ্যাস পাচারের আয়োজন।

LPG-cylindersইতোমধ্যে, নানান মহল থেকে শোনা যাচ্ছিল সরকার বাসাবাড়ীর ব্যবহারের জন্য গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পুরোপুরি এলপিজি সিলিণ্ডার-নির্ভর করতে চায়। সেই ধারাবাহিকতাতেই গত বছর গ্যাসের দাম এক দফা বাড়ানো হয়েছিল। শোনা যাচ্ছিল এ বছরেও গ্যাস-বিদ্যুতের দাম আরেক দফা বাড়বে। এর মধ্যেই অর্থমন্ত্রী মুহিত এলপিজি আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামাবার প্রস্তাব করেছেন।

বাংলাদেশে ইতিমধ্যে এলপিজি গ্যাসের চাহিদা প্রতিবছর ৩ লক্ষ টন। এর মধ্যে, রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) দেশে তৈরী করে ২০,০০০ টন। বেসরকারি সংস্থাগুলো ৮০,০০০ টন এলপিজি আমদানি করে যার অধিকাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ঘাটতি থাকে প্রায় ২ লক্ষ টন।

আবার, দেশীয় তৈরী এলপিজির খরচ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা হলেও, খোলা বাজারে সেটা ১,৭০০ টাকার আশেপাশেই পড়ে – যা কিনা বেসরকারি এলপিজির দামের সমান।

সরকারের এলপিজির প্রতি আগ্রহ সম্প্রতি দেখা যায় ভারতীয় রাষ্ট্রীয় সংস্থার সাথে চট্টগ্রামে এলপিজি টার্মিনাল নির্মানের চুক্তিতে। ভারতীয় তেল মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ঢাকা সফরে গত এপ্রিল মাসে চুক্তিটি সম্পাদিত হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে একটি গ্যাস লাইন স্থাপন নিয়েও আলোচনা হয়।

ভারতের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা বলেছে ভারতীয় সরকার সেই গ্যাস সংযোগ দিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যে গ্যাসের যোগান দিতে চায়। পাশাপাশি, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে, বিশেষ করে (ত্রিপুরা, আসাম রাজ্যে) ৪০ থেকে ৪৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্র ডুয়েড (গ্যাস/কয়লা) পদ্ধতিতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আগামী বছরের বাজেট পরিকল্পনায় জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাতে সরকারের বরাদ্দ ১৫ হাজার ৩৬ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় সাড়ে ৯ শতাংশ কম। এই বরাদ্দের অন্তরায় আছে ভারতের থেকে বেশি খরচে ডিজেল আমদানি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমা সত্ত্বেও বেশি দামে দেশীয় বাজারে তেল বিক্রী করাসহ নানাবিধ তৎপরতা।

গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে গ্যাস সংযোগের দাম বাড়ায় সরকার। বাসাবাড়ীর জন্য প্রতি ধাপেই ২০০ টাকা করে বাড়িয়ে এক চুলার জন্য ৬০০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৬৫০ টাকা নির্ধারন করে সরকার। গ্যাস পাচারের নীতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এলপিজির দাম এবং গ্যাস সংযোগের দাম কাছাকাছি এনে উৎপাদন সংকট দেখিয়ে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে সরকার।

উল্লেখ্য, ভবিষ্যতে সংযোগে গ্যাসের দাম যে বাড়তে পারে তা জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগের চেয়ারম্যান আগেই আভাষ দিয়েছিলেন – যেদিন সরকার গ্যাসের দাম বাড়ায়। তিনি বলেছিলেন গ্যাসের দাম আরো তিন গুণ হওয়া উচিৎ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*