বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকটের মূলে অপরিপক্ব ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি

বি ডি রহমতউল্লাহ্।।বি ডি রহমতউল্লাহ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সৃষ্ট সংকটগুলো আজকের নয়। দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো আজ এক গভীর সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শাসক দলের লোকজন অবশ্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ‘অভাবনীয় উন্নয়ন’ ঘটেছে— এমনটি বলতে বলতে যারপরনাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আর আমরাও জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান অবস্থা এবং এ খাত নিয়ে সামনের দিনের অশনিসংকেতের কথা ভাবতে ভাবতে আতঙ্কিত হয়ে উঠছি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে প্রণীত এ সরকারের নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে যেসব চমত্কার কথাবার্তা ঘোষিত হয়েছিল, তার কিয়দংশও যদি বাস্তবায়ন হতো, আজ হয়তো অত্যন্ত চমত্কার একটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত আমরা পেতাম। কিন্তু এখন কী দেখছি!! আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের নির্বাচনপূর্ব এসব ছেলে ভুলানো কথাবার্তা যে জনগণকে প্রতারণার একটি কৌশল, তা হররোজ অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই টের পাচ্ছি। নিচে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ কর্তৃক প্রণীত নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে যেসব চমত্কার কথাবার্তা ঘোষিত হয়েছিল, তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ উদ্ধৃত করছি—

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ কর্তৃক প্রণীত নির্বাচনী মেনিফেস্টো

৩.১ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা সমাধানে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত সার্বিক জ্বালানি নীতিমালা গ্রহণ করা হবে। তেল, গ্যাস, কয়লা, জলবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস ও জৈবশক্তি, বায়ুশক্তি ও সৌরশক্তিসহ জ্বালানির প্রতিটি উেসর অর্থনৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। তিন বছর মেয়াদি ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় বর্তমানে নির্মাণাধীন ও গৃহীত বিদ্যুৎ উত্পাদন কেন্দ্র দ্রুত বাস্তবায়ন, জরুরি ভিত্তিতে ১০০-১৫০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন প্রকল্প, বৃহৎ ও ক্ষুদ্র বিদ্যুৎ উত্পাদন কেন্দ্র নির্মাণসহ আওয়ামী লীগ আমলে বেসরকারি খাতে ১০, ২০ ও ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উত্পাদন কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া পুরনো বিদ্যুেকন্দ্র মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও ওভারহোলিংয়ের ব্যবস্থা করে বিদ্যুৎ উত্পাদন বৃদ্ধি করা হবে।

৩.২ তেল ও নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও আহরণের কাজে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। গ্যাস ও এলপিজির সরবরাহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হবে।

৩.৩ জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রেখে কয়লানীতি প্রণয়ন করা হবে। এ-যাবৎ প্রাপ্ত কয়লার অর্থনৈতিক ব্যবহার ও কয়লাভিত্তিক নির্মাণে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে। নতুন কয়লা ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে।

২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ কর্তৃক প্রণীত নির্বাচনী মেনিফেস্টো

৪.১ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অগ্রগতির ধারা অব্যাহত ও আরো দ্রুততর করা হবে। বিদ্যুৎ উত্পাদনে আওয়ামী লীগ সরকার প্রণীত এবং বাস্তবায়নাধীন মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জনের ভেতর দিয়ে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের প্রতি ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। ২০১৬ সাল নাগাদ বিদ্যুৎ উত্পাদন ১৬ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। বর্ধিত বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ উত্পাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারত, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়, ত্রিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উত্পাদন-বণ্টনের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। পরিকল্পিত ৩০ লাখ সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সহজলভ্য ও ব্যাপক করা হবে।

৪.২ গ্যাসের যুক্তিসঙ্গত উত্তোলন ও ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আরো শক্তিশালী করার নীতি অব্যাহত থাকবে। গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান এবং উত্তোলনে বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরো রিগ এবং আধুনিক সাজ-সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংগ্রহ করা হবে। নতুন গ্যাস ও তেলক্ষেত্র আবিষ্কারে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বাংলাদেশের উপকূল ও গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে অন্যান্য দেশ ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার প্রচেষ্টা জোরদার করা হবে। দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের অবশিষ্ট জেলাগুলোয় গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপচয় হ্রাসের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এগুলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মৌলিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন এ মৌলিক কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলেই নানা ধরনের সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা এ মেনিফেস্টোতে ঘোষিত কর্মপরিকল্পনার জ্বালানি নিরাপত্তার মৌলিক কর্মসূচিগুলো কি বাস্তবায়ন হতে দেখেছি? সরকার অবশ্য একটি কথা নিত্যবার বলে যাচ্ছে যে, আমরা বিদ্যুৎ উত্পাদন ক্ষমতা অনেক বাড়িয়েছি। এটাই কি শেষ কথা? ঢাকার আশপাশে যেমন— গাজীপুর, সাভার, নবীনগর, টঙ্গী, কাঁচপুর ইত্যাদি শহরতলীর শিল্প এলাকাগুলো মাসের ৩০ দিন হররোজ ২ থেকে ৩ ঘণ্টা করে লোডশেডিংয়ের আওতায় থাকে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহীসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ শহর এলাকা বাদে বাংলার গ্রামীণ জনপদ লোডশেডিংয়ে আক্রান্ত।

পরিমাণগত দিক দিয়ে উত্পাদন বেড়েছে, তা যেমন সত্য; বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত গুণ, মানসহ আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিশেষত্ব হারিয়েছে, তাও চরম সত্য!! এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক! পাঠকদের যে মৌলিক বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে ভাবতে অনুরোধ করব তা হলো, উত্পাদিত বিদ্যুৎ মানসম্মত কিনা, সাশ্রয়ী কিনা, টেকসই কিনা, পরিবেশবান্ধব কিনা, নির্ভরযোগ্য কিনা, সহজলভ্য কিনা!! একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও জনগণের উন্নত জীবনযাপনের মান নির্ধারণ করার জন্য জ্বালানি উত্পাদন ও ব্যবহারের সূচকই হলো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরিমাপক। এ উত্তরগুলো পাঠকদের বেশ ভালোভাবেই জানা আছে। এমনটি হওয়ার কথা ছিল না, যেখানে আমরা বিদ্যুতের দর ন্যায্য থেকে তিন-চার গুণ বেশি করে দিয়েছিলাম! প্রথম তিন-চার বছর অধিকাংশ বিদ্যুতের দর প্রতি ইউনিট ৪-৫ টাকার স্থলে ১৭-১৮ টাকা করে দেয়া হয়নি? আমাদের তো স্বর্ণের দামে বিদ্যুৎ কিনে এত বিভ্রাট, লোডশেডিং, এত সংকটের মুখোমুখি হওয়ার কথা নয়! এত উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনার পরও এ সংকটগুলোর মুখোমুখি হলে আমাদের খুব গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে সমস্যাগুলো আসলে কী, কেন সমাধান হচ্ছে না এবং কীভাবে এর সমাধান করা যায়!!

অধিকাংশ দেশে কিংবা ক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ সংকট সৃষ্টির অন্যতম একটি কারণ হলো জ্বালানি সংকট এবং মুখ্যত তা জ্বালানি ঘাটতি। যদি একটি দেশে প্রচুর গ্যাস থাকে, তেল থাকে, কয়লা থাকে, পানি থাকে, সূর্যের আলো থাকে, বায়ু থাকে, নদীর স্বাভাবিক স্রোতকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উত্পাদন করার সুযোগ থাকে, থাকে প্রচুর বায়োমাস, তাহলে সে দেশে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উত্পাদন করতে বাধাটি কোথায়? উল্লিখিত বিভিন্ন জ্বালানির মধ্যে শুধু জ্বালানি তেল ছাড়া বাংলাদেশে আর কোনো জ্বালানি অঢেল না হোক, অনেক যে আছে— এ কথাটি কোন ব্যক্তি চোখ বন্ধ করে অস্বীকার করতে পারবে? কিন্তু আমরা কি তা ব্যবহারের পদক্ষেপ নিয়েছি? যেমন— বাপেক্স সুনেত্রা গ্যাস কূপ আবিষ্কারের বিষয়ে সরকার থেকে যে পরিমাণ সাহায্য পাওয়া দরকার ছিল, বিশেষত লজিস্টিকের বিষয়ে, তা না পাওয়া সত্ত্বেও যে সময়ে এবং যে ব্যয়ে উক্ত গ্যাস কূপ আবিষ্কার করেছে, এটা প্রমাণ করে যে বাপেক্সকে সরকার প্রয়োজনীয় সাহায্য দিলে তারা এত দিনে ভূমিস্থ কূপগুলো থেকে সম্ভাব্য মজুদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত অনেক গ্যাস উত্তোলন করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট অনেক কম সময়ে ও অনেক স্বল্প ব্যয়ে স্থায়ীভাবে সমাধান করতে পারত।

আর সাগরবক্ষের যে গ্যাস সঙ্গত কারণেই তা উত্তোলনের জন্য বাপেক্স ও আন্তর্জাতিক কোনো অভিজ্ঞ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেই তা বাস্তবায়ন করা যেত অতিসহজে। যেভাবে মালয়েশিয়া পেট্রোনাসকে সামনে এনে এ সংকটের সমাধান করেছিল।

কিন্তু আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো— জ্বালানি ও বিদ্যুৎ কাদের জন্য উত্পাদন করব। সমাজ ও মানুষের জন্য। এখন যদি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উত্পাদন করতে গিয়ে মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে ওঠে, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়, মানুষের শারীরিক অক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে আয়ু হ্রাস পায়, পরিবেশ ধ্বংস হয়ে মনুষ্যজীবন হুমকি হয়ে ওঠে— সে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তো মানুষের কাম্য হতে পারে না। তাহলে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ কীভাবে উত্পাদন করা যায়, তার জ্ঞানও থাকতে হবে।

পৃথিবী কার জন্য। মানুষ ও প্রাণীর জন্য। সুতরাং মানুষ ও প্রাণীবিহীন পৃথিবী ও সমাজে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কার জন্য উত্পাদন করা হবে। এরই মধ্যে বিশ্বে পরিবেশ বিপর্যয়ে যে ধ্বংসলীলা শুরু হয়েছে, তা আনবিক যুদ্ধ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার চেয়েও ভয়ঙ্কর ও সর্বনাশা। এক্ষেত্রে মানুষ ও সমাজকে রক্ষা করার আন্দোলন আজ সমাজ বিপ্লবের সমার্থক হয়ে উঠেছে। একটি আরেকটির পরিপূরক। যে সমাজে মানুষ থাকবে না, সে সমাজে আমরা কাদের জন্য বিদ্যুৎ উত্পাদন করব? এ প্রশ্নগুলোর সমাধান করেই জ্বালানি ও বিদ্যুতের প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ ও মত নির্ধারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুৎ খাতের সংকটের অন্যতম আরেকটি প্রধান কারণ হচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সৃষ্ট এক চরম অব্যবস্থাপনা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এ সরকারের নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে ঘোষিত স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করা, টেকসই জাতীয় জ্বালানি নীতি ঘোষণা না করা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার প্রচণ্ড অভাব, লাগামহীন দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা, আশু সংকট সমাধানে ক্রাশ প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন না করা— সব ধরনের অব্যবস্থাপনাই আজ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে শুধু সংকটই সৃষ্টি করেনি, এ খাতের নিরাপত্তাকে প্রচণ্ড হুমকির মুখে ফেলেছে।

সঠিক ব্যবস্থাপনার নীতি অনুসরণ করে এ খাতকে পরিচালনা করলে যা অবশ্যম্ভাবীরূপে ঘটতে পারত, সেগুলো  হলো—

ক.  সারা দেশ সার্বিকভাবে লোডশেডিংমুক্ত হতো

খ. মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্থাৎ যথাযথ ফ্রিকোয়েন্সি, যথাযথ মানের ভোল্টেজ সরবরাহ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হতো

গ. গণমানুষের চাহিদা অনুযায়ী সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যেত

ঘ. পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উত্পাদন করে প্রাণ-প্রকৃতি-জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা যেত

আওয়ামী লীগের নির্বাচনপূর্ব ঘোষণায় স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের বিচ্যুতির ফলে নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে চিহ্নিত, ঘোষিত ও বাস্তবায়নযোগ্য যাবতীয় প্রকল্প থেকেই আমরা এখন যোজন যোজন দূরে। সামগ্রিক ব্যর্থতার ফলগুলোকে বিশ্লেষণ করে এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মেনিফেস্টো ঘেঁটে সংক্ষেপে যে কারণগুলোকে চিহ্নিত করা যায় সেগুলো হলো—

১. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অদক্ষ, অপেশাদার, নীতিবিবর্জিত ও দুর্নীতিবাজ লোকদের নেতৃত্ব

২. টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উত্পাদন জ্ঞানবিবর্জিত নীতিনির্ধারকদের হাতে এ খাতের মূল পরিচালন দায়িত্ব

৩. দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার সঠিক বিশ্লেষণপূর্বক অনেক সাশ্রয়ী ও কম মূল্যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ যে সমাজে এক আর্থিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিপ্লব ঘটাতে পারে, সে সম্পর্কে এ খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত  নীতিনির্ধারকদের জ্ঞান না থাকা

৪. শিল্পায়ন, কৃষি ও সামাজিক সূচকে মানসম্পন্ন ও সাশ্রয়ী মূল্যে এমনকি ভর্তুকি দিয়েও জ্বালানি কিংবা বিদ্যুৎ অথবা দুটিই সরবরাহ করলে যে এক অভাবনীয় আর্থিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে  এ খাতের নীতিনির্ধারকদের সে জ্ঞানও না থাকা।

আমার একটি পরামর্শ থাকবে অন্তত উপরের চারটির ভেতর ন্যূনতম শুধু ১ নম্বরটি দিয়ে হলেও সংকট সমাধানের পদক্ষেপ শুরু করা যেতে পারে। সার্বিক বিষয়টা একটু ভেবে দেখুন তো!!

 

লেখক: সাবেক মহাপরিচালক, পাওয়ার সেল।

সূত্র: বণিক বার্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*