মোদিকে চিঠি দেওয়ার কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা

দ্বন্দ্ব রিপোর্ট।।

সুন্দরবন ধ্বংস করে বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাতিলের দাবিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে লেখা খোলা চিঠি পৌঁছে দিতে গিয়ে পুলিশী হামলার মুখে পড়েছে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। পুলিশের টিয়ারশেলে মিছিলে অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশের এ  হামলার প্রতিবাদে ২০ অক্টোবর ঢাকাসহ সারা ​দেশে বিক্ষোভ করবে কমিটি।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কমিটির নেতৃবৃন্দ ও নেতা-কর্মীরা জড়ো হন। সেখানে তারা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। এরপর সেখান থেকে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তাঁরা মিছিল নিয়ে বিজয়নগর, শান্তিনগর হয়ে গুলশানের দিকে এগিয়ে যান। কিন্তু বেলা একটার পর মৌচাক মোড়ে মিছিলটি পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা ধ্বস্তাধ্বস্তি হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এ সময় নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। আহত হন অন্তত কয়েক জন।

পুলিশের এ বাধাকে অগণতান্ত্রিক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ​এই চিঠি দিতে যাওয়া একটি স্বাভাবিক ঘটনা। এটি গণতান্ত্রিক অ​ধিকার। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আমরা আমাদের দাবি তুলে ধরছি। পুলিশের এ বাধা বাড়াবাড়ি। রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাতিলের দাবিতে তাদের কর্মসূচি চলবে বলে তিনি জানান।

জাতীয় কমিটির মহানগর নেতা খান আসাদুজ্জামান মাসুম জানান, পুলিশের এ হামলায় তাদের অর্ধশত নেতা কর্মী আহত হন। পুলিশ জলকামান থেকে পানি ছোড়ে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ও গুলি ছোড়ে।
প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা হামলার কথা জানিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, … এর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠির মিছিল সহ বিভিন্ন সময়ে সুন্দরবনরক্ষার আন্দোলনে হামলা করা হয়েছে, হুমকী দেয়া হয়েছে, গ্রেফতার ও নিপীড়ন চালানো হয়েছে কিন্তু তাতে আন্দোলন থেমে যায় নাই, আন্দোলন দিনে দিনে আরো জোরদার হচ্ছে।
কোন হামলা-হুমকী-নিপীড়ন করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলন চলছে, চলবে।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে প্রেসক্লাবের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মোদির উদ্দেশ্যে লেখা খোলা চিঠিটি পাঠ করেন আনু মুহাম্মদ। চিঠিতে প্রকল্পটি বাতিলের আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যদি বাংলাদেশে করতেই হয়, তাহলে অন্য কোথাও করা হোক। সেখানে পরিবেশের এত বড় ক্ষতি হবে না। কিন্তু সুন্দরবন একটি। এটিকে ধ্বংস করা চলবে না। তাঁরা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে প্রকল্পটি বাতিলের আহ্বান জানান।

সমবেশে বক্তব্য দেন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তানজিম আহমেদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*

Latest from নির্বাচিত খবর

গো টু টপ