ক্যাটাগরি আর্কাইভ

শিল্প-সংস্কৃতি

সুন্দরবন নিয়ে আব্দুল্লাহ মাহফুজ অভি’র ডকুফিল্ম ‘ডাক দিয়েছে সুন্দরবন’  

দ্বন্দ্ব রিপোর্ট।।

সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে মাঠে আন্দোলনের পাশাপাশি চলছে গান কবিতা ছবি আঁকা, শর্টফিল্ম, ডকুমেন্টরি, বিভিন্ন রম্য ও তথ্যভিত্তিক ভিডিও নির্মাণ। আছে আন্দোলনের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মত ও  যুক্তি তর্কের লড়াই। এরই ধারাবাহিকতায় এবার নির্মাণ হলো ডকুফিল্ম ‘ডাক দিয়েছে সুন্দরবন’।

সাম্প্রতিক সময়ে ধারণ করা সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলনের বিভিন্ন ফুটেজের ওপর ভিত্তি ভিত্তি করেই ডকুফিল্মটি বানিয়েছেন তরুণ নির্মাতা আবদুল্লাহ মাহফুজ অভি। এই ডকু ফিল্মটির নাম ‘ডাক দিয়েছে সুন্দরবন’।  এটি ইউটিউব চ্যানেলে রিলিজ হয়েছে।

এই ডকুফিল্ম সম্পর্কে আবদুল্লাহ মাহফুজ অভি বলেন, ‘ডাক দিয়েছে সুন্দরবনে’র সব ঘটনা, সব চরিত্রই সত্য। আর এই সত্য ঘটনাকে তুলে ধরেছি। ডকুফিল্মটিতে এই আন্দোলনকে আমি এক তরুণ শিক্ষার্থীর চোখ দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছি। চারিদিকের ‘নয়েজে’র ভেতর থেকে এই তরুণ আলাদা করে নিয়েছে কিছু শব্দকে। নিজের চিন্তা ও বিবেক কাজে লাগিয়ে সে যেসব শব্দকে নিজের ভেতর ধারণ করেছে , সেই শব্দ লক্ষ্য করেই শেষ পর্যন্ত এগিয়ে গেছে এই তরুণ।

অভি আরও বলেন, এই সময়টাকে আমার একটা প্রপাগান্ডার আস্তাকুঁড় মনে হচ্ছে। দিকভ্রান্ত করে দিচ্ছে আমাদের। তবে সঠিক শব্দটি দেরি হলেও যদি পৌঁছে যায় আপনার কাছে, আপনি কিন্তু ঠিকই তাকে আলাদা করে চিনতে পারবেন।

অ্যাক্টিভিস্ট ও নির্মাতা অভি বলেন, দেখুন একটু চিন্তা করলেই সব পরিস্কার হয়ে যাবে। একটি আন্দোলনকে কেন্দ্রে রেখে একের পর নির্মাণ হচ্ছে সৃজনশীল গান, কবিতা, নাটক, ফিল্ম (শর্ট ফিল্ম) ইত্যাদি। আর এসব কাজগুলোই কিন্তু প্রমাণ করে, ভেতর থেকে উঠে আসা একদলা আবেগের কথা। ভেতর থেকে না এসে যদি এক তরফাভাবে কোন এজেন্সির অর্থায়নে হতো তাহলে কিন্তু জনতার ভেতরের বিভিন্ন স্তর থেকে আপনি এমন সাড়া পেতেন না। তার মানে এসব কিছুই কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে রইল।

অভি জানান, ডকুফিল্মটিতে বিভিন্ন চরিত্র রয়েছে। তবে প্রতিটি চরিত্রই সত্য। এভাবেই এর চরিত্রায়ন পরিচিতি দিচ্ছেন নির্মাতা। ডকুফিল্মটি শুরুতেই সর্তকীকরনে বলা হয়েছে, ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর আর কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র প্রাণ-প্রকৃতি-জীবনের জন্য ক্ষতিকর।

পুরো ভিডিওটির র্দৈঘ্য ৮ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের এই ভিডিওটি বাঙ্গাল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যানারে লাস্টবেঞ্চ প্রডাকশন টিমের প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে।

‘ডাক দিয়েছে সুন্দরবন’ ডকুফিল্মটি দেখুন:

 

 

maxresdefault

মুভ্যি রিভিউ: ‘ফেস টু ফেস’ এই পঁচে যাওয়া সমাজের কথা বলে

আদিত্য মাহমুদ।।

একজন কবি অথবা পলাতক পিতা; যে হত্যা করেছে প্রেমিকার গর্ভের সন্তানকে। এক ভয়ানক তীব্র অপরাধবোধ তাকে খুন করে চলছে প্রতিনিয়ত। প্রতি মুহূর্তে নিজের কাছেই ক্ষয়ে যাচ্ছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা। আজ সে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি। এমন সময় তার পরিচয় হয় লক্ষ্মী’র সাথে। লক্ষ্মী একজন ‘বাজারি’ মেয়ে। এ সমাজ ব্যাবস্থা যাদের টানবাজার থেকে শুরু করে শহরের অন্ধকার রাস্তার মোড়ে দাঁড় হতে বাধ্য করেছে। এখান থেকেই শুরু হয়েছে  সাহাদত রাসেল এর স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ফেস টু ফেস’ এর পথ চলা।

maxresdefault

এরপর নগরীর ঘুমন্ত রাস্তায় সোডিয়ামের জোৎস্নায় চলতে থাকে দুজনার কথোপকথন। কথার স্রোতে ভেসে ওঠা ওদের জীবনের অনেক কথা। সেই সাথে একে একে সামনে আসতে থাকে সমাজের নানান অসংগতির চিত্র। এখানেই পরিচালক রাসেল সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। বিশেষত, এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বর্ণিল সজ্জার নিচে লুকিয়ে থাকা পশুত্বকে তুলে এনেছেন নির্মোহভাবে। তুলে ধরেছেন নারীদের প্রতি চলমান নির্মম বৈষম্যের কিছু ক্ষত।

‘ফেস টু ফেস’-এ প্রচলিত ধর্মীয় চেতনার ঘাড়ে চেপে বসা কূপমুণ্ডুকতার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বেশ জোরালোভাবে। এর বিপরীতে বলা হয়েছে মানব ধর্মের কথা। এছাড়াও প্রশাসন, সরকার, রাষ্ট্র সর্বোপরি সম্পূর্ণ সমাজ কাঠামোর দিকে পরিচালক আঙ্গুল তুলেছেন। প্রকাশ পেয়েছে গভীর ক্ষত, হতাশা, যন্ত্রনা আর জমাট বাঁধা ক্ষোভ। তবে এসব অসংগতির পেছনের মুল কারণ এখানে খতিয়ে দেখা হয়নি। এমনকি, ক্ষত সারিয়ে তোলার উপায় বিষয়ে স্পট বক্তব্য অনুপস্থিত। হয়ত পরিচালক শুধু কিছু প্রশ্ন তুলে ধরতে চেয়েছিলেন! হয়ত মাত্র ১৯ মিনিট দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রে সমাজের সামগ্রিক সমস্যাবলির বিস্তারিত বিশ্লেষনের দাবি করাটা অবিচারের সামিল! তবে বেশ কিছু সংলাপ এর মধ্যে দিয়ে পরিচালক রাসেলের ভেতরের যন্ত্রনা আর জ্বলতে থাকা বিদ্রোহের আগুন যেমন পরিষ্কার দেখা যায়, তেমনি অধিকাংশ মানুষের মাঝে এই পচনধরা সমাজ ভেঙ্গে ফেলার আকাঙ্ক্ষা যে ক্রমেই দানা বাধতে শুরু করে এমন ইঙ্গিত বেশ পরিস্কারভাবে পাওয়া যায়।

তৌফিক নাওয়াজ এর সিনেমাটোগ্রাফি; অথবা হুমায়ারা হিমু ও জামশেদ শামীম এর অভিনয়; কিম্বা পার্থিব রাশেদ ও বায়জিদ প্রিন্স এর এডিটিং, অথবা অন্য সকল বিভাগ সহ পুরো ‘ফেস টু ফেস’ চলচ্চিত্র টির নির্মাণ শৈলী, শিল্পমান, আঙ্গিক ও কলা কৌশল নিয়ে প্রচুর আলোচনা-সমালোচনা, তর্ক-বিতর্ক, বা ব্যাখা-বিশ্লেষন করা যেতে পারে। তবে, এসব কিছুকে ছাপিয়ে এর বিষয়বস্তু ও বক্তব্য অন্যদের থেকে এই চলচ্চিত্রকে আলাদা করে তুলেছে।

চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক শাহদাত রাসেলের ‘ফেস টু ফেস’ চলচ্চিত্রের দৃষ্টিভঙ্গী বিশেষভাবে লক্ষনীয় এবং প্রশংসাযোগ্য। এই চলচ্চিত্রে সচেতনভাবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়েছে যে; নারী কোনও সম্ভোগযোগ্য মাংসপিণ্ড নয়। তার প্রথম পরিচয় সে একজন মানুষ। সে একজন প্রেমিকা… একজন মা… পুরুষের একান্ত আশ্রয়স্থল। পরিচালক সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় এখানে হাজির করেছেন তা হল তিনি সমাজ বিচ্ছিন্নভাবে কেবল ব্যাক্তি জীবনের স্বপ্ন, ক্ষোভ,আকাঙ্ক্ষা, হতাশার মাঝে তার চলচ্চিত্রকে বেঁধে রাখেননি। তিনি বরং ব্যাক্তি জীবনকে সমাজ জীবনের অংশ হিসেবে, সমাজ বাস্তবতার উপর দাঁড়িয়ে সামগ্রিকভাবে দেখার চেষ্টা করেছেন।  যা বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। একই কারণে অন্যদের জন্যও অনুসরণীয়।

স্বল্প দৈর্ঘ চলচ্চিত্রটি দেখতে পারবেন এই লিংকে:

https://z-1-video-sin1-1.xx.fbcdn.net/v/t42.1790-2/13294950_181494952250826_546335745_n.mp4?efg=eyJ2ZW5jb2RlX3RhZyI6InN2ZV9zZCJ9&oh=c77fc37a38a810f116750a023f03a1fc&oe=5749A201

সুন্দরবন রক্ষায় ‘মাভৈঃ’র ‘বাদাবনের’ জারি

‘বাদাবন মায়ের আঁচল আভয়রে নিওনা কাড়িয়া নিরদয়/ উন্নয়নের ঝড়ে ওড়াও এমন সুন্দরবন / সুন্দর যতি না থাকে তবে না থাকুক দুনয়ন। বাদাবন মায়ের আঁচল অভয় রে নিওনা কাড়িয়া নিরদয়।’

এ এক অন্য রকম আকুতী, অন্য এক আক্ষেপ। সম্প্রতি মাভৈঃ গানের দল সুন্দরবন রক্ষায় সুতীব্র এক আকুতী জানিয়ে বেঁধেছে বাদাবনের জারি। গানের কথাগুলো শুনলে হৃদয়ে এক ব্যাথা অনুভূত হয়। গভীর এক ষড়যন্ত্রে কি তাহলে আমরা আমাদের সুন্দরবন ধংস করে ফেলছি!

পুরো লেখা পড়ুন

লাস্ট বেঞ্চ’র শর্টফিল্ম ‘সাইরেনে’ সময়ের প্রতিবাদ

লাস্ট বেঞ্চ’র শর্টফিল্ম ‘সাইরেনে’ সময়ের প্রতিবাদ

শিল্পের জন্য শিল্প, নাকি জীবনের জন্য শিল্প- এ বিতর্ক বহু পুরনো। তবে বর্তমানে বিশ্ব বাস্তবতায় শিল্পকে এখন জীবন ঘনিষ্ঠ হতে হয়।বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, বর্তমানে দেশের প্রধানতম সামাজিক সমস্যাগুলো কী কী। তবে আপনার বলার তালিকায় প্রথম দিকে থাকবে, নারী লাঞ্ছনা ও যৌন হয়রানি। সম্প্রতি বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনা যার বড় প্রমাণ। পুরো লেখা পড়ুন

634756363036388184-the-love-affair

বাংলার প্রাক-ঔপনিবেশিক শিল্পকলা

আদিত্য মাহমুদ।।

বাংলায় চিত্রকলার বিকাশ ঘটেছে প্রাচীনকালে। বাংলা তথা ভারতীয় শিল্পে নানা বৈশিষ্ট্যের শিল্পের দেখা পাওয়া যায়। মূলত সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় শক্তির উত্থান-পতনের ওপর নির্ভর করে বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন ঘটেছে। বৌদ্ধযুগ, পালযুগ, সেনযুগ, মুসলিম যুগ এবং ইংরেজ আমল সব যুগেই শাসক শ্রেণীর বৈশিষ্ট্যসূচক শিল্পের প্রাধান্য লক্ষ্যণীয়। শাসকশ্রেণীর পৃষ্ঠপোষকতায় এসব শিল্পচর্চা করা হতো। এ ধরনের শিল্পীরা রাজশিল্পী বা দরবারি শিল্পী নামে পরিচিত। এর বিপরীতে আরেক দল শিল্পীর দেখা মেলে। যাদের বলা হয় লোকশিল্পী। ভারতবর্ষের প্রাচীন শিল্পের ঐতিহ্যের ধারার সন্ধান পাওয়া যায় মূলত এসব লোকায়ত শিল্পীদের সৃষ্ট শিল্পকর্মের মাঝে। বাংলার সাধারণ মানুষের জীবন বিশ্বাস ও প্রচলিত লোকগাথাসমূহকে এসব লোকশিল্পীরা তাদের শিল্পকর্মে বহন করে চলেছেন আবহমানকাল থেকে। এসব লোকশিল্পী পটুয়া নামে পরিচিত। বৌদ্ধ সাহিত্যে এসব লোকশিল্পীকে বলা হয়েছে শৌভিক। এ ছাড়া প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যেও এদের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়। তবে মজার কথা হল, পৃথিবীর অন্য যে কোনো স্থানের চেয়ে বাংলায় দরবারি ও লোকশিল্পের পার্থক্য তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এ অঞ্চলের সামগ্রিক গ্রামীণ চরিত্রই ছিল এর প্রধান কারণ।

পুরো লেখা পড়ুন

গো টু টপ